আগে NBA প্লে-অফে যাওয়ার নিয়ম ছিল সহজ: নিয়মিত মৌসুম শেষ হলেই প্রতিটি কনফারেন্সের শীর্ষ ৮ দল সরাসরি চলে যেত। কিন্তু এতে একটা সমস্যা হতো — ৮-৯ নম্বরের একদম সীমানার বাইরে থাকা দলগুলোর প্লে-অফ অবস্থান মোটামুটি আগেই ঠিক হয়ে যেত, ফলে বাকি ম্যাচগুলো হয়ে যেত অর্থহীন, দুই দলই মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়ে বেঞ্চের খেলোয়াড় নামাত, আর খেলার মান একদম পড়ে যেত। ঠিক এই কারণেই ২০২০-২১ মৌসুম থেকে লিগ নিয়মিত মৌসুম শেষে একটা “Play-In Tournament” যোগ করেছে, যেখানে প্রতিটি কনফারেন্সের ৭ থেকে ১০ নম্বর সিডের চারটি দল বাকি দুটো প্লে-অফ স্পট (৭ ও ৮ নম্বর সিড) এর জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ে। এর ফলে হঠাৎ করেই অনেক দল মৌসুমের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিতে পারত না — ৫ বা ৬ নম্বরে থাকা দলগুলোকে Play-In জোনের বাইরে থাকতে জিততে হতো, আর ১০ থেকে ১২ নম্বরের কাছাকাছি থাকা দলগুলোর সত্যিকারের প্রেরণা ছিল শেষ ম্যাচ পর্যন্ত লড়াই করার, যাতে অন্তত একটা সুযোগ পায়। মৌসুমের শেষ দিকের বাস্কেটবল অনেক বেশি উপভোগ্য হয়ে ওঠে, ভক্তরাও ভালোভাবে গ্রহণ করে, আর নিয়মটা তখন থেকেই টিকে আছে।

প্রথম রাউন্ড: ৭ বনাম ৮, ৯ বনাম ১০

প্রথম রাউন্ডে একসাথে দুটি ম্যাচ হয়:

  • ৭ নম্বর সিড ঘরের মাঠে ৮ নম্বরের মুখোমুখি: জিতলে সরাসরি প্লে-অফে ৭ নম্বর সিড নিশ্চিত হয়; হারলেও আরেকটা সুযোগ থাকে (নিচে দেখুন)
  • ৯ নম্বর সিড ঘরের মাঠে ১০ নম্বরের মুখোমুখি: জিতলে Play-In-এর শেষ ম্যাচে যাবে; হারলে সাথে সাথে বাদ, দ্বিতীয় সুযোগ নেই

দ্বিতীয় রাউন্ড (ফাইনাল): ৭v৮-এ হারা দল বনাম ৯v১০-এ জেতা দল

“৭ বনাম ৮”-এ হারা দলটি ঘরের মাঠে “৯ বনাম ১০”-এ জেতা দলের মুখোমুখি হয়, আর এই ম্যাচের বিজয়ী পায় শেষ প্লে-অফ স্পট — ৮ নম্বর সিড।

অর্থাৎ, ৭ বা ৮ নম্বর সিডের মধ্যে যে দলই প্রথম ম্যাচ হারুক না কেন, তার সামনে আরেকবার ফিরে আসার সুযোগ থাকে — দুই ম্যাচের যেকোনো একটা জিতলেই সে চলে যায়। অন্যদিকে ৯ ও ১০ নম্বর সিডের প্রত্যেকের জীবন একটাই — ৯v১০ ম্যাচ হারলেই মৌসুম শেষ। প্রতিটি ম্যাচেই ঘরের মাঠের সুবিধা পায় উঁচু সিডের দল।

এই নিয়মই সত্যিকারভাবে দলের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে

২০২০-২১ থেকে চালু হওয়ার পর থেকে Play-In Tournament নিজের মূল্য প্রমাণ করেছে — মৌসুমের শেষ দিক উপভোগ্য করার পাশাপাশি, নিজের বেশ কিছু কিংবদন্তি মুহূর্তও তৈরি করেছে। ২০২২-২৩ মৌসুমে Miami Heat প্রথম Play-In ম্যাচে Hawks-এর কাছে হেরে, Bulls-কে হারিয়ে কোনোরকমে ৮ নম্বর সিড হিসেবে প্লে-অফে ঢোকে — আর প্রথম রাউন্ডেই নিয়মিত মৌসুমে অনেক ভালো রেকর্ডধারী ১ নম্বর সিড Milwaukee Bucks-কে ৪-১ ব্যবধানে বিদায় করে দেয়। ২০২৪-২৫ মৌসুমে Heat আরও এগিয়ে যায়: ইতিহাসে প্রথম ১০ নম্বর সিড হিসেবে Play-In পেরিয়ে প্লে-অফে ওঠে, সিদ্ধান্তসূচক ম্যাচে Tyler Herro একাই করেন ৩০ পয়েন্ট। এখনো কোনো দল Play-In থেকে উঠে চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত যেতে পারেনি — কিন্তু হয়তো একদিন যাবে। এটাকে NBA-র সাম্প্রতিক বছরগুলোর সত্যিকারের ভালো পরিবর্তনগুলোর একটা বলতেই হয়।

কেন এমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়ম রাখা হয়েছে

এই যুক্তিটা বেশ সহজবোধ্য: যে দল নিয়মিত মৌসুমে ভালো রেকর্ড করেছে তার সত্যিকারের একটা সুবিধা পাওয়া উচিত — নইলে অতগুলো বাড়তি ম্যাচ জেতার মানে কী? ৭ ও ৮ নম্বর সিডকে দুটো সুযোগ দেওয়া, আর দুটোই নিচের সিডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে, রেকর্ডের এই ফারাক প্রতিফলিত করার একটা যুক্তিসঙ্গত উপায়। অন্যদিকে ৯ বা ১০ নম্বর সিডকে প্লে-অফ স্পটের জন্য নিজেকে প্রমাণ করতে হয় যে সে সত্যিই সেই জায়গার যোগ্য, তাই তার জন্য বার আরও উঁচুতে রাখা যুক্তিসঙ্গত।

আপনি যদি দীর্ঘদিন পর আবার NBA দেখা শুরু করা পুরনো ভক্ত হন, স্ট্যান্ডিংয়ে ৯-১০ নম্বরে থাকা কোনো দলকে দেখেই “এই দল প্লে-অফে যাচ্ছে না” বলে বাতিল করে দেবেন না — দুই রাউন্ডের Play-In শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই রেঞ্জের যে কারো সুযোগ আছে। আর ১০ নম্বর সিড যদি সত্যিই পেরিয়ে যায়, সেটাই হবে সবচেয়ে দেখার মতো আন্ডারডগ গল্প।